বাপুর চোখে পানি
ফিটির ফিটির কৈরা ম্যাগ পড়ছে। বাজারের আসল রাস্তা পিছে ফেল্যা ছুটু ছুটু ইঁট পাথরকুচির বাইরশ্যার
প্যাচপ্যচ্যা ডহর ধৈরা ষায়ট বাসট্টির বাপ আয়গল্যা যুগের কাঠের ডাঠির হ্যয়ন্ঠ্যা ছিড়্যা ছুটট্টা ছাতা মাথায় দিয়্যা থড়বড় করতে করতে যায়ছে।
বাজারি কায়দায় গড়্হা বোড়োলোকী বাড়িতে য্যয়্যা
দুয়ারে তিন চ্যারব্যার ঠুকা দিতেই ভিতির থ্যক্যা
বছর তিরিশের বেটিছ্যাল্যা দুয়ার খুইল্যা দিলে।
--কী ব্যাপার? আপনি এখানে? কী চাই?
--হামার সাজু ক্যামন আছে? অর সুতে এ্যাকটু দেখা করব!
--উ এখন বাড়িতে নাই। যখন থাকবে তখন আয়সেন।
তারপর কুনু কথা না ক্যহ্যা খটাং কৈরা বাড়ির দরজা লাগিয়্য দিলে।
বুড়্হা বয়সে নিজের ব্যাটার মাইয়্যার এরকম ব্যবহার সৈজ্জ্যো কৈরা থাকা কত যে কঠিন এটা হাড্ডিতে হাড্ডিতে টের পায়্যাছে সমশের আলি। পরের জমিতে হাল ব্যহ্যা , কিছু আধি লিয়্য জমি চাষ কৈরা কুইথ্যা মুইথ্যা ছ ছটা ছ্যাল্যপিল্যা মানুষ করে সমশের। অর্ঘ্যে মৈধ্যৈ থ্যক্যা এই সাজুই বাজারে আইস্যা ক্যামন কৈরা যে পৈড়্হা স্কুলের হেডমাস্টার হৈয়্যা গেছে। চাকরি পাওয়ার পর আর গাঁয়ে যাওয়া হয়নি । শহরেরই এক ধোনির বেটিকে বিহ্যা কৈরা ঘর গোছাইলছে।
গাঁয়ের কাঁচা রাস্তার সরান ধৈরা আয়স্যা ট্রেনে কৈরা আসতে এ্যাকটু দেরি হৈয়্যা গেলছে আর ব্যাটা স্কুলে মাস্টারি করতে চৈলা গেছে। এল্যাগ্যা আর দেখা হৈলো না। সন্ধ্যায় স্কুল ছুটি হৈলে বেটার সঙ্গে দেখা হৈব্যার আশায় শমসের আলি পানজোরের একটা চায়ের দোকানে চা খায় আর বইস্যা ব্যাটার অপেক্ষায় রহে। চায়ের দোকান থ্যক্যা দ্যাখে স্কুল ছুটি হৈলে মেল্লায় গ্যালা ছ্যাল্যাপিল্যা বাড়ি ফিরছে । এ্যখন হামার ছ্যাল্যা ঘর ফিরা অ্যাসব্যার
সময় হৈয়া গেলছে কিন্তু নিজের ব্যাটার বাড়ি য্যয়তে আর সাহস পাই না বহুর ওই ব্যবহার অর মনে পৈড়া যায় ।
স্কুল থ্যক্যা ফিরা সাজু যখন চায়ের দোকানে আসে তখন বাপুর সুতে অর মুলাকাত হৈয়া গ্যালো ।
নিজের ব্যাটাকে দেখ্যা বাপের বুকে খুশী আর ব্যাটা উবজ্যাব্যার সুখের বাতাস বৈহ্যা গ্যালো জ্বী!
--কেমন আছিস হাঁর বাছা ? সাজু!
---ভালো আছি আব্বা ।
--- তুমি কেমন আছো ?
-- হামি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি ব্যাটা।
----কিছু টাকা দিতে পারবি সাজু?
--না হামি কুনু টাকা দিতে পারবো না ।এ্যাখন হাঁর বেতুন উঠেনি। তোমাকে ক্যামন কৈরা টাকা দিবো?
--দ্যাখ বাছা ! তোর মা আইজ দশ দিন থ্যক্যা বিমার। কত কিছু কইরা অর চিকিৎসার টাকা ,রক্ত আর শরীল পরীক্ষার টাকা জুটাতে পারিনি ।
--তো হামি খালি কি এ্যাকলাই তোমার ব্যাটা নাকি?আরো তো তোমার একটা বেটি আছে ! চাইরঝনা ব্যাটা আছে। অর্ঘে কাছে ল্যাউ। হামার টাকা হৈলে হামি দিয়্যা দিবো।
-- তুই তো জানিস অরা সভাই বাহির খ্যাট্যা খায়। কুনু রকমে সংসার চলে ।অরা তো তোর মতন এত বড় জায়গায় আসতে পারিনি ।এখনো মাঠে-ঘাটে ঘাটে । কৃষি কাজের যা অবস্থা ! সহার পানির টাকা দিতে সব চৈলা যায় ।লাভের লাভ কিছুই হয় না।
কিছু না কৈহ্যা না দিয়্যা গোমঠা মুখ কৈরা চলে গ্যালো সাজু মাস্টার।
অন্য দিক থ্যক্যা এ্যাকঝনা ভদ্রলোক আয়স্যা মুচকি সাজু মাস্টারকে হ্যাঁস্যা কহিলেন, "স্যার আপনি যে দুটা এসির অর্ডার দিয়্যাছিলেন ঐগল্যা কয়্যাকদিনের মৈধ্যে চৈলা আসবে। "
এ্যাকটু দুর হনে বাপু শুনলে ! পান্ঞজোরে রেল স্টেশনের ট্রেনের হুইসেল । মালদা য্যব্যার ট্রেন ছাড়্যা দিলে। আর এ্যাকটু পরেই সামশিতে হরিশ্চন্দ্রপুর যাওয়ার ট্রেন ঢুকবে! অর খবর হৈয়া গেলছে।
শমসের আলি স্টিশনের দিকে ট্রেন ধৈব্যার ল্যগ্যা হাঁটতে লাগলো। পচ্ছিম আসমানে সাঁঝের চিক্যাশ ডুম মারার ল্যাগ্যা লাল রঙ্গে রৈঙগ্যা ছিটিরপিটির করতে লাগলো
( চলবে ---/to be continued পরবর্তী পর্ব - ২ এর জন্য নজর রাখুন এই পেইজে)

Comments
Post a Comment